Monday, 16 November 2015

ইজমা ও কিয়াস :-ইসলামী জ্ঞানের উৎস আল্লাহর পক্ষ থেকে একমাএ কুরআন ও সুন্নাহ সেখানে ইহুদী খ্রীষ্টানরা সংযোগ করে ইজমা ও কিয়াস :


★★★★★★★★★★★★
*****************************
ইংরেজরা ভারত উপমহাদেশ দখল
করে,ইসলামের কবর দিয়ে, তাদের
মনগড়া বাতিল ধর্ম ইসলাম বলে
চালু করে,সকলে যেন পালন করে
তার ব্যবস্হা করে রেখে গেছে!!!
*******************************
*****************************
ইসলামী জ্ঞানের উৎস আল্লাহর পক্ষ থেকে একমাএ কুরআন ও সুন্নাহ সেখানে ইহুদী খ্রীষ্টানরা সংযোগ
করে ইজমা ও কিয়াস।অথচ ইবলিশ শয়তান বিতারিত হয়েছে কিয়াস ক রে।আল্লাহর দেওয়া পরিপূর্ন ইসলামে ইজমা কিয়াস নাই।"যদি"থেকে ইজ মা,কিয়াসের উৎপত্তি,রাসুল(সঃ) বলে ছেন"যদি"ইবলীস শয়তানের কুমন্ত্রনা র দরজা খুলে দেয় আর ইবলিশ শয় তান বিধর্মীদের মনগড়া ধর্ম শোভনী য় করে দেখায়।
রাসুল (সঃ) ও সাহাবীগন একমাএ
কুরআন ও সুন্নাহ অনুসরন করেছেন।
আল্লাহর পক্ষ থেকে দৈনন্দিন জীবন ব্যবস্হা ইসলামকে পরিপূর্ন করেই রাসুলকে প্রেরন করেছেন ইসলামকে বিজয় করার জন্য বিধর্মীদের বানো য়াট মনগড়া কিয়াস ইজমার ধর্ম থেকে।
যদি,কিয়াস,ও ইজমাই ইসলামের কবর রচনা করে,বিধর্মীদের মনগড়া কিয়াস ইজমার ধর্মের বিজয় করে!!! কিয়াস ইজমা ফিকাহর মাযহাবের নামাজ,যাকাত,রোজা হজ্জ ও সকল আমল সহকারেই সে কাফির, তার স্হানই জাহান্নাম।
ক | ইসলামী জ্ঞানের উৎসের প্রচলিত তালিকায় যা মাদ্রাসায় শিখানো হয় এবং অনেক সাধারন মুসলমানও জানে ১| কুরআন ২| হাদীস ৩|ইজমা ও ৪| কিয়াস, এই ৪ টি থেকে কিয়ামত
অবধি ঘটমান সকল সমস্যার সমাধান ও ইসলাম বুঝতে হবে।এর বাইরে ব্যক্তিগত জ্ঞান-গরিমা বা মেধার আলোকে যে যতই সুন্দর সুষ্ঠ সমাধান বের করবে ইসলামে তার কোন মূল্য নেই।
(পেশ কালাম,উসূলুশ শাশী,প্রকা শক আল-আকসা লাইব্রেরী ঢাকা।
প্রকাশকাল-০৯.১১.২০০৪ কওমী ও আ
লীয়া মাদ্রাসার পাঠ্য বই)
খ | সনদসহ জাল হাদীস তৈরী করে,
কুরঅান সহীহ ও সুন্নাহর জ্ঞান থেকে
দূরে সরানোর জন্যে মুসলিম সমাজে
ছাড়িয়ে দেয়।
ইমাম বুখারী(রহঃ)প্রায় ছয় লক্ষ
হাদীস বাছাই করে মাএ ২৫০০ -২৭০০
হাদীস তাঁর মতে সহীহ পেয়েছিলেন,
এখান থেকে বুঝা যায় হাদীসের জ্ঞনে ভূল ঢুকানোর জন্যে ইহুদী খ্রীষ্টানরা কী ব্যাপক কাজ করেছে।ঐ হাদীসের অধিকাংশে বাদ দেয়া সম্ভব হলেও এখনও ঐ বনানো হাদীসের মাধ্যমে ইসলামের সবচেয়ে বেশি ক্ষতি করা হচ্ছে।
কিছু ক্ষেএে শক্তিশালী সহীহ হাদী স থাকা সত্বেও দূর্বল হাদীসের ভূল
ব্যাখাকে দলিল ধরে ভূল তথ্য তৈরি
করেছে।এবং কুরআন ও শক্তিশালী সহীহ হাদীসের ঐ বিষয়ের সরল বক্ত ব্যকে আমলেই আনা হয়নি বা অভি নবভাবে ব্যাখ্যা করে তার সাথে মিলানো হয়েছে।
গ| ফিকাহ শাস্রে ভূল ঢুকানোর পর কুরআন-হাদীস থেকে সরাসরি ইসলাম জানার পরিবর্তে ফিকাহ শাস্ত্রে হতে ইসলাম জানতে মুসলিম দেরকে উৎসাহিত করার জন্য ইহুদী,
খ্রীষ্টনদের গোয়েন্দারা বিভিন্ন কথা বানিয়েছে এবং মাদ্রাসার সিলেবাসে
ঢুকিয়ে দিয়ে সেগুলোর ব্যাপক প্রচারে র ব্যবস্হা করেছে।যেমনঃ-
১|- - - - -কুরআন ও সুন্নাহ হইতে আইন-কানুন খুঁজে বের করে সমস্যা র সমাধান করা বহু সময় সাপেক্ষ ও
কষ্টসাধ্য।- - - -(বিভিন্ন বিষয়ে গভীর
জ্ঞান না থাকা অবস্হায়) কুরআন ও সুন্নাহ ব্যাখ্যা করে সৎপথের সন্ধান করতে চাইলে সৎপথ পাওয়ার চাইতে
পথভ্রষ্ট হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি থাক বে।ফকীহগনের এ বিষয়ে পূর্ন ব্যৎপ ত্তি ছিল।তারা সকল বিষয় পূর্নাঙ্গভা বে বিবেচনা করে কুরআন ও সুন্নাহর
ভিত্তিতে ফিকাহ শাস্র সম্পাদন করে ছেন।এখন কুরঅান সুন্নাহর আইন বলতে ফিকাহ শাস্রকেই বুঝান হয়ে থাকে।
(আল-মুখ-তাসারুল কুদুরী আরাফাত পাবলিকেশন্স ২০০১ ইং সালের নতুন সংস্করন জানুয়ারী ২০০৮ এ পুনঃমুদ্র ন।পৃষ্ঠা ১০ এবং শরহে বেকায়া,আরা ফাত পাবলিকেশন্স,৩ য় সংস্করন
সেপ্টেম্বর ২০০৬ ইং পৃষ্ঠা-৬।কওমি এবং আলিয়া মাদ্রাসার পাঠ্যবই)
২| হযরত ইমাম মালেক (রঃ)নিজ ভাগ্নে আবু বকর ও ইসমাইল (রঃ)
কে বলেন-আমি দেখছি যে,হদীস চচ্চার প্রতি তোমাদের আগ্রহ অধিক। তবে যদি কল্যান চাও তবে তোমরা হাদীসের রেওয়ায়েত কম কর এবং ইলমে ফিকাহ বেশি অর্জন কর।
(আল-মুখতাসারুন কুদুরী, আরাফাত পাবলিকেশন্স ২০০১ ইং সালের নতুন সংস্করন,জানুয়ারী ২০০৮ এ পুনঃমুদ্রন পৃষ্ঠা ১১,আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসার পাঠ্য বই)
৩| এমনি (ইসলামের প্রসারের) যুগস ন্ধিক্ষনে তাবেয়ী যুগের শেষ দিকে সত্যের পুজারী আলেম সমপ্রদায়ের জামায়াত কুরআন ও সুন্নাহকে সাম নে রেখে তাদের মূলনীতি অনুসরন করে এমন আইনশাস্র প্রনয়ন করলে ন যা সর্বযুগে,সর্বদেশ,সকল অবস্হা য় ও সকল সমস্যার সমাধানে সক্ষম ।এটাই আজ দুনিয়ার বুকে ফিকাহ ইসলামী নামে সুপতিষ্ঠিত।
(আল-মুখতাসারুল কুদুরী আরা ফাত পাবলিকেশন্স ২০০১ ইংসালের নতুন সংস্করন জানুয়ারী ২০০৮ এ পুনঃমুদ্রন পৃষ্ঠা ১০ এবং শরহে বেকায়া,আরাফাত পাবলিকেশন্স ৩য়
নংস্করন,সেপ্টম্বর ২০০৬ ইংপৃষ্ঠা ৫। আলিয়া ও কওমী মাদ্রাসার পাঠ্যবই)
৪| মাযহাবের ইমামগন কুরআন ও সুন্নাহের কোন স্হানের কিরুপ ব্যাখ্যা করে কি মাসয়ালা বা কি আইন রচ না করেছেন তা সম্যকরুপে অবগত না হয়ে আমাদের জন্য কুরআন ও সুন্নাহ হতে মাসয়ালা বের করা বা ব্যাখ্যা করা আদৌ বৈধ হবে না।অত এব ফিকাহ শাস্রের পূর্ন জ্ঞানার্জনের পর কুরআন ও সুন্নাহ অনুশীলন করা উচিত।
(আল-মুখতাসারুল কুদুরী মাদ্রাসার ৯ ম ও ১০ম শ্রেনীর পাঠ্য,সপ্তম প্রকাশ,পৃষ্ঠা-৯)
ফিকাহ শাস্র অনেক ব্যাপক।তাই ফিকাহের সকল বই পড়ে শেষ করা প্রায় অসম্ভব।এ তথৎটি সত্য বলে মেনে নেয়ার কারনে,কুরআন ও হাদী স নিয়ে স্বাধীনভাবে গবেষনা করার সাহস কেউ পায়না বা খুব কম ব্যক্তি ই পায়।
কুরআন আল্লাহ সহজ করে দিয়েছে ন গবেষনা করে বুঝা,মানা ও অনুসর ন করা ও আল্লাহর ইবাদত করে মুস লিম হওয়ার জন্যে।
ভূল তথ্যগুলোর সংস্কারের পথ
গোয়েন্দারা যেভাবে বন্ধ করেছেঃ-
প্রথমে ফিকাহ শাস্রের সংস্করন করা নিষিদ্ধ-তথ্যটি তৈরী করা হয়ে ছে।তারপর মাদ্রাসার সিলেবাসে ঢুকিয়ে এবং অন্যভাবে কথাটির ব্যা পক প্রচার এবংগ্রহনযোগ্যতা পাওয়া র ব্যবস্হা করা হয়েছে।
১| পূর্বে ইজমা হয়ে আছে তাই এ বিষয়ে আর গবেষনা করা যাবে না-কুরআন ও সুন্নাহর সম্পূর্ন বিরদ্ধে এ কথাটি ব্যাপকভাবে প্রচার করা হয়ে ছে।তথ্যটির মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে,ইসলামের বিভিন্ন বিষয়ে পূর্বের মনীষীগনের সামষ্টিক সিদ্ধান্ত ফিকা হ শাস্ত্রের মধ্যে লিপিবদ্ধ অাছে।তাই এখন গবেষনা করে ঐ সিদ্ধান্তের কোনরুপ পরিবর্তন বা পরিবর্ধন করা যাবে না।
২| মাদ্রাসার পাঠ্য বইয়ে এমন তথ্য লিখে রাখা হয়েছে যার মাধ্যমে
ছাএরা জানতে পারে ফিকাহ শাস্রের সংস্করন করা নিষিদ্ধ।যেমনঃ-
ক| ইসলামী বিধানের মূল বুনিয়াদ হল ৪ টি। কুরাআন,সুন্নাহ,ইজমা, কি য়াস।কিয়ামত অবধি ঘটমান সকল সমস্যার সমাধান এ ৪ টি থেকে বের করতে হবে।এর বাইরে ব্যক্তিগত জ্ঞানগরিমা বা মেধার আলোকে যে যতই সুন্দর সুষ্ঠ সমাধান বের করবে ইসলামে তার কোন মূল্য নেই।
(পেশ কালাম,উসূলুকাশাশী প্রকাশ ক, আল-আকসা লাইব্রেরী,ঢাকা।
প্রকাশ কাল ০৯-১১-২০০৪,আলিয়া ও
কওমী মাদ্রাসার পাঠ্যবই)
খ| ১ ম ও ২ য় যুগের (হিজরী ৭ম শতাব্দির মাঝামাঝি সময়) মুজতা হিদগন এমন একটি পূর্নাঙ্গ ফিকাহ শাস্র দান করিয়া গিয়াছেন যাহাতে মানব জীবনের প্রত্যেকটি বিষয় লিপিবদ্ধ।
ওদের গভীর ষড়যন্ত্রের পূর্নাঙ্গ তুলে ধরতে গেলে মহামূল্যবান সময়
নষ্ঠ হবে এক কথায় বলতে গেলে কুর অান ও সুন্নাহর জীবন ব্যবস্হা সম্পূ র্ন পরিবর্ন করে ওদের ধর্ম রেখে গেছে।এখন এই বাতিল ধর্ম থেকে বাচতে হলে সকল দলের,সকল মানু ষের কুরঅান গবেষনা করে একে অপরেরর নিকট তাবলীগ করতে হবে,শিরক বেদাতি সকল বইগুলি মসজিদ, মাদ্রাসা ও সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে তাড়াতে হবে,একমাএ কুরআন ও সহীহ হাদীস গ্রন্হগুলি রেখে।
রাসুল(সঃ)বলেছেনঃ"যে ব্যক্তি ইস লামকে পূর্নজীবিত করার উদ্দেশ্যে বিদ্যা শিক্ষা করে এবং শিক্ষাকালীন
অবস্হায় মুত্যুবরন করে জান্নাত তা হার এবং নবীদের মধ্যে কেবলমাএ একটি দরজার পার্থক্য থাকিবে।"
(সহীহ বুখারী)
মানুষের আমলে জান্নাতে যাওয়ার কোন নিশ্চয়তা নাই,আমলে জাহান্না
মে যাওয়ার নিশ্চয়তা আছে! জাহান্না ম থেকে বাচার জন্য কিয়াস ইজমার
ফিকাহর আমল ত্যাগ করি আল্লাহর
দেওয়া দৈনন্দীন জীবন ব্যবস্হা পূর্ন জীবিত করার চেষ্টা সাধনা গবেষনা করে আল্লাহর স্হায়ী বসবাসের নেয়া
মতপূর্ন জান্নাতের আশা করি,পীর বুজুর্গদের ধোকা থেকে নিজেদেরকে হেফাজত করি।
হে আল্লাহ্ তুমি আমাদেরকে দিয়ে
তোমার দ্বীন ইসলামকে পূর্নজীবিত
কর,আমাদেরকে ঈমানদার মুসলিম করে মুত্যু দিও।
(আমীন)

Monday, 9 November 2015

ইজমা ও কিয়াস

ইজমা ও কিয়াস নিয়ে আমাদের সমাজে ব্যপক ভুল ধারণা বিদ্যমান। আমরা জানিই না ইজমা কি আর কিয়াস কি!
মানুষ ইজমা কিয়াস সম্পর্কে মারাত্মক ভুল জ্ঞান রাখার কারণে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন বিষয় ধর্মের মধ্যে ইজমা কিয়াসের নাম দিয়ে ঢুকিয়ে দিচ্ছে। বিশেষ করে বিদাতি খুবই অল্প জ্ঞানী সুফিবাদী আলেম নাম ধারী লোকেরা প্রতিনিয়ত সাধারণ মানুষের কাছে নতুন নতুন বিষয় উপস্থাপন করে বলেন এটা ইজমা হয়ে গিয়েছে ওটা কিয়াস হয়ে গিয়েছে।
আর সাধারণ মানুষও না বুঝেই সেগুলো গ্রহণ করেছে এবং সহিহ বিষয় উপস্থাপন হলে উনারা সেটা
মানতে অস্বীকৃতি জানিয়ে ইজমা কিয়াসের যুক্তি দাড় করান অথচ তিনি জানেনই না ইজমা কি বা কিয়াস কি!
‘আজ তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পরিপূর্ণ করলাম। আমার নেয়ামতকে তোমাদের উপর পূর্ণতা দিলাম আর তোমাদের জন্য ইসলামকে দ্বীন হিসেবে মনোনীত করলাম।’ (মায়েদা, ৫ : ৩)
যদি তোমরা কোন বিষয়ে বিবাদে প্রবৃত্ত হয়ে পড়, তাহলে তা আল্লাহ ও তাঁর রাসুলের প্রতি প্রত্যর্পণ কর (নিসা, আয়াত ৫৯);
সে লোক ইমানদার হবে না, যতক্ষণ না তাদের মধ্যে সৃষ্ট বিবাদের ব্যাপারে তোমাকে [রাসুল স] ন্যায়বিচারক বলে মনে না করে (নিসা, আয়াত ৬৫)
আল্লাহর নির্দেশ মান্য কর, নির্দেশ মান্য কর রাসুলের (ইমরান, আয়াত ৩২, ১৩২; নিসা, আয়াত ৫৯; আনফাল, আয়াত ১, ২০, ৪৬; নুর, আয়াত ৫৪, ৫৬; মুহাম্মদ, আয়াত ৩৩; মুজাদালাহ, আয়াত ১৩; আততাগাবুন, আয়াত ১২);
তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে যা অবতীর্ণ হয়েছে তোমরা তাঁর অনুসরণ করো এবং আল্লাহকে বাদ দিয়ে অলী আওলীয়াদের অনুসরণ করো না । তোমরা অল্প সংখ্যক লোকই তা স্মরণ রাখো (আ’রাফ, আয়াত ৩)
অনেকেই বলে থাকেন কুরআন হাদিসে সমাধান না পাওয়া গেলে কি করব? অথচ স্বয়ং আল্লাহ বলছেন মতানৈক্য হলে রাসুল (সাঃ) ও কুরানের দিকে ফিরে আসতে! অর্থাত কুরআন ও হাদিসের মধ্যেই সমাধান অবশ্যই আছে। তারপরেও যদি বলেন কুরানে ও হাদিসে তো নাই! তাহলে তো আরো সহজ যা কুরআন ও হাদিসে নাই তা ইসলামেও নাই!
‘‘নিশ্চয়ই সর্বোত্তম বাণী আল্লাহ্‌র কিতাব এবং সর্বোত্তম আদর্শ মুহাম্মদের আদর্শ। আর সবচেয়ে নিকৃষ্ট বিষয় হল (দ্বীনের মধ্যে) নব উদ্ভাবিত বিষয়। আর নব উদ্ভাবিত প্রত্যেক বিষয় বিদ‘আত এবং প্রত্যেক বিদ‘আত হল ভ্রষ্টতা এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার পরিণাম জাহান্নাম।’
সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৫৩৫ ও সুনান আন-নাসায়ী, হাদীস নং ১৫৬০, হাদীসের শব্দ চয়ন নাসায়ী থেকে।
দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ। এখন ইজমা কিয়াসের নামে দ্বীন ইসলামে নতুন নতুন সংযোজন কি আদৌ সম্ভব?
ইসলামী শরীয়তের (আইনের) তৃতীয় উৎস হলো ইজমাঃ
——————————————————
ইজমা হলো এ উম্মতের দীনি জ্ঞানসম্পন্ন মুজতাহিদদের ঐকমত্য পোষণ।
আর এর ভিত্তি হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের সহিহ হাদিস-
‘‘আমার উম্মত কখনও ভ্রষ্ট পথে একমত হবে না’’ ।
মুস্তাদরাকে হাকিম (১/২০০-২০১) হাদীস নং- ৩৯৪, ৩৯৬, ৩৯৭, ৩৯৯, ৪০০। আরো দেখুন: আবুদাউদ (৪/৯৮) হাদীস নং- ৪২৫৩; তিরমিজি (৪/৪৬৬) হাদীস নং- ২১৬৭; ইবনে মাজা (২/১৩০৩) হাদীস নং- ৩৯৫০।
সুতরাং উম্মতের সবাই যদি কোনো ব্যাপারে একমত হয়, তাহলে তাও আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের অনুমতিক্রমেই হবে। আর তা হবে গ্রহণযোগ্য। পূর্ববর্তী কোনো দ্বীনের ক্ষেত্রে তাদের নবীর মুখ থেকে এরকম কোনো অভয়বাণী শোনানো হয় নি। ফলে তাদের সবাই একমত হলেই সে মতটি সঠিক হওয়ার গ্যারান্টি নেই।
অথচ অল্প জ্ঞানী লোকজন ইজমার বয়ান করে চলেছেন সমাজে!
আজকে সমাজের দিকে লক্ষ্য করলে সহজে বুঝা যায় যে আহলে সুন্নাত জামায়াতের স্কলারগণ অন্যান্য প্রচলিত বিভিন্ন ফেরকার নিজস্ব মতামত গ্রহণ করছেন না। তারা কুরআন ও সহিহ হাদিসের বাইরে কোনো মতামত গ্রহণ করেন না। ব্যক্তিগত কোনো মতামত তারা গ্রহণ করেন না।
অতএব ইজমা ইজমা করে যারা নতুন বিষয় দ্বীনে প্রবেশ করাচ্ছেন তারা মূলত ইজমা নিয়ে মানুষকে বোকা বানাচ্ছেন।
আজকে সমাজে কিছু সংখ্যক আলেম ইজমা ইজমা করছেন অথচ সালাফি স্কলারগণ রীতিমত তাদের বিরোধিতা করছেন! তাহলে ইজমা হলো কিভাবে?
“যে আমাদের এ ধর্মে এমন কোন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে যা ধর্মে অন্তর্ভুক্ত ছিল না তা প্রত্যাখ্যাত হবে”। (বুখারী ও মুসলিম)
অনেক স্কলারদের মতে চার খলিফার পরে উম্মতের মধ্যে ইজমা হওয়ার আর কোনো সুযোগ নাই!
ইজমার উদাহরণ হচ্ছে যেমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য পাচ ওয়াক্ত ১৭ রাকাত সালাত ফরজ। এই ফরজ কম করা যাবে না বা বেশিও করা যাবে না। এটাই হচ্ছে ইজমা। কেউ যদি বলে ১৭ রাকাত না ১৮ রাকাত বা ১৯ রাকাত তবে তা গ্রহণ যোগ্য হবে না!
এটাই ইজমা যে ১৭ রাকাত ফরজ সালাত। এটা ১৪৫০বোচোর আগে থেকেই প্রকাশিত একটা বিষয়। নতুন বিষয় নয়।
কেউ যদি বলে বিতর সালাত ফরজ এটা ইজমা তাহলে এটা ভুল! ফরজ তো অবশ্যই নয়। বিতর সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা অর্থাত খুব গুরুত্ত পূর্ণ ঠিক যেমন ফজরের সুন্নত সালাত খুব গুরুত্ব পূর্ণ, যদিও কেউ কেউ ওয়াজিব বলেছেন! তবে অধিকাংশ স্কলারদের মতে এটা সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ।
লক্ষনীয় বিষয় কেউ যদি বলে বিতর ফরজ বা ওয়াজিব এটা ইজমা তাহলে ভুল! উপরের হাদিস লক্ষ্য করেন ”একমত হবে না” অর্থাত অধিকাংশ স্কলার সুন্নাতে মুয়াক্কাদাহ বলেছেন যদিও কেউ কেউ ওয়াজিব বলেছেন।
কিন্তু সবাই একমত দৈনিক পাচ ওয়াক্ত সালাত ফরজ। চার ওয়াক্ত নয় আবার ছয় ওয়াক্তও নয়। এটাই ইজমা।
যাকাত ফরজ এটা ইজমা।
সিয়াম ফরজ এটা ইজমা।
=============================
ইসলামী শরীয়তের (আইনের) চতুর্থ উৎস হলো কিয়াস:
—————————————————-
যা নির্ভর করে পূর্ববর্তী তিনটি উৎসের উপর। সুতরাং এটাও মনগড়া কিছু নয়।
কিয়াস হচ্ছে কুরআন ও হাদিসকে কেয়ামত পর্যন্ত সংযোগ স্থাপন করা। এটা নতুন কোনো বানানো বিষয় নয়।
এর ছোট্ট একটা উদাহরণ হলো এই কাগজে কুরআন লেখা কি নিষেধ? এখানে কিয়াস হচ্ছে অবশ্যই না। কারণ তত্কালীন সময়ে চামড়ায় গাছের পাতায় বাকলে লেখা হত , যদি কাগজ থাকত তবে কাগজেও লেখা হত।
এই যে ১৪৫০ বছর আগে নাজিল হওয়া কুরআনের বিধান বর্তমান সময়ে সমন্বয় করা এটাই কিয়াস।
বিল্লাল (রাঃ) কে উচ্চ স্বরে আজান দিতে বলা হত যাতে বেশি দূর পর্যন্ত লোকে আজান শুনতে পায়!। এবং এক অন্ধ লোককে আজান শুনতে পেলে মসজিদে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছিল । আজান যত বেশি দূর পর্যন্ত পৌছবে তত সয়াব অর্জনের কথা হাদিসে এসেছে। ইসলাম জীবনের প্রয়োজনে নতুন টেকনোলজি ব্যবহার নিষেধ করে না। অতএব বুঝা যাচ্ছে যদি তখন মাইক থাকত তাহলে মাইক ব্যবহার করা হত। মাইক ব্যবহার দ্বীন ইসলামের বিধান পরিবর্তন করে না।
“যে ইসলামে কোন ভাল পদ্ধতি প্রচলন করল সে উহার সওয়াব পাবে এবং সেই পদ্ধতি অনুযায়ী যারা কাজ করবে তাদের সওয়াবও সে পাবে, তাতে তাদের সওয়াবে কোন কমতি হবে না। আর যে ব্যক্তি ইসলামে কোন খারাপ পদ্ধতি প্রবর্তন করবে সে উহার পাপ বহন করবে, এবং যারা সেই পদ্ধতি অনুসরণ করবে তাদের পাপও সে বহন করবে, তাতে তাদের পাপের কোন কমতি হবে না”। (মুসলিম)
এই যে সংযোজন অর্থাত কানেক্টিভিটি ১৪৫০ বছর আগের কুরআন ও হাদিসের বাণীর সাথে এটাই হচ্ছে কিয়াস।
অথচ সমাজে দ্বীনের নাম নতুন বিষয় সংযোজন করে বলা হচ্ছে এটা কিয়াস! অথচ দ্বীনের মধ্যে প্রত্যেক নতুন সংযোজন বিদাত যা গোমরাহী যার পরিনাম জাহান্নাম।
টেলিভিশন স্ক্রিনে ইসলামিক লেকচার শুনা জায়েজ কিনা?
রাসুল (সাঃ) কে দেয়ালে দৃশ্য পটে জান্নাত ও জাহান্নাম দেখিয়েছেন আল্লাহ! আবার আল্লাহ বায়তুল মুকাদ্দাস রাসুল (সাঃ) কে চোখের সামনে তুলে ধরেছেন স্ক্রিনের মত করে !
এখন কিয়াস হচ্ছে কানেক্টিভিটি। এর প্রেক্ষিতে স্ক্রিনে ইসলামিক প্রোগ্রাম জায়েজ। সংবাদ পরিবেশন জায়েজ। এটাই কিয়াস। একইভাবে স্ক্রিন নাজায়েজ কাজে ব্যবহার নিষেধ যেমন নাটক, নাচ, গান !
ওপেন হার্ট সার্জারীর জন্য ঝুকি নেয়া কি জায়েজ? কুরআন সুন্নায় এর উদাহরণ আছে কিনা? রাসুল (সাঃ) কে প্রায় তিনবার বুক চিরে হার্ট পরিস্কার করা হয়েছে।
এখন কিয়াস হচ্ছে কানেক্টিভিটি। ১৪৫০ বছর আগের কুরআন ও সুন্নাহ অনুসারে বর্তমান সময়ের সমস্যার সমন্বয় ভিত্তিক সমাধান। কিয়াস হচ্ছে ওপেন হার্ট সার্জারী করা যাবে! রাসুল (সাঃ) এর জীবনে আমাদের জন্য রয়েছে আদর্শ।
এটাই হচ্ছে কিয়াস।
অর্থাত কুরআন ও হাদিসের বাইরে নয়।
অতএব কিয়াসের নামে কুরআন ও সুন্নাহের বিপরীত কোনো বিষয় গ্রহণ করা কিভাবে সমীচীন হবে?
“যে আমাদের এ ধর্মে এমন কোন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করবে যা ধর্মে অন্তর্ভুক্ত ছিল না তা প্রত্যাখ্যাত হবে”। (বুখারী ও মুসলিম)
একই ভাবে বাসে চড়া বিমানে চড়া, মেশিনে কাপড় সেলাই জায়েজ কিনা , মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা জায়েজ কিনা এগুলো সম্পর্কে মাসাআলা কিয়াসের ভিত্তিতে হয়।
কিন্তু দ্বীন ইসলামের কোনো বিষয়ই হের ফের করার সুযোগ নেই।
অতএব আমরা বুঝতে পারছি যে, ইসলাম এমন একটি দ্বীনের নাম, যা সম্পূর্ণভাবে অবিকৃত রয়েছে। আর তার বিধানসমূহে বাইরের কোনো প্রভাব সেখানে পড়ে নি। যেহেতু আল্লাহ তা‘আলাই এ বিধান দিয়েছেন, আর জ্ঞান-বিজ্ঞানও তাঁর পক্ষ থেকেই দেয়া নেয়ামত বিশেষ, সেহেতু এ দু’টি কখনও পরস্পর বিরোধী হতে পারে না। বাস্তবেও তা ঘটে নি।
আল্লাহর কুরআনের কোনো আয়াত, রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর কোনো সহিহ হাদিস বিজ্ঞানে-পরীক্ষিত কোনো ধ্রুবসত্যের বিরোধী হয়েছে— এমন কোনো প্রমাণ আজও কেউ দিতে পারে নি। যদিও কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিজ্ঞানের কোনো কোনো থিওরি প্রাথমিকভাবে আল-কুরআন ও সহিহ হাদিসের সাথে বিরোধী হয়েছে এমন মনে হয়ে থাকে, তথাপি সেখানে আল্লাহর কুরআন ও সহিহ হাদিসই মূলত গ্রহণযোগ্য হবে, কারণ এ সমস্ত প্রাথমিক থিওরি (যা পরীক্ষিত সত্য বলে প্রমাণিত হয় নি তা) পরিবর্তনশীল। আল্লাহর কুরআনের কোনো আয়াত, আর রাসূল সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লামের কোনো সহিহ হাদিস পরিবর্তনশীল নয়। হাঁ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে তাড়াহুড়া করে অনেকেই সঠিক অর্থ ও ব্যাখ্যা অনুধাবন করতে পারেন না। সে ক্ষেত্রে দরকার প্রকৃত জ্ঞানীর কাছে ফিরে যাওয়া।
আর ইসলাম জ্ঞান-বিজ্ঞানকে উৎসাহিত করেছে, জ্ঞান অর্জনকে ফরয করেছে। অন্যান্য ধর্মের মত নিরুৎসাহিত করে নি। ইসলামে বিজ্ঞানীদের যে কদর আছে, অন্যান্য ধর্মের সাথে এর কোনো তুলনাই চলতে পারে না। সুতরাং দীন (ইসলাম) এবং জ্ঞান-বিজ্ঞান পরস্পর বিরোধী বলা সম্পূর্ণ অযৌক্তিক। আর তাই ইসলামী বিধান বাস্তবায়নে এ সন্দেহের অবতারণা করা বাতুলতা মাত্র।
রাসুল (সাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন কুরআন ও সুন্নাহ কে আকড়ে ধরতে। ইজমা ও কিয়াস কুরআন ও সুন্নাহেরই অংশ। বাইরের কিছু নয়। দ্বীন ইসলাম পরিপূর্ণ। নতুন সংযোজন বা বিয়োজনের কোনো সুযোগ নাই। তাহলে কিভাবে ইজমার নামে কিয়াসের নামে নতুন বিষয় ইসলামে প্রবেশ করানো সম্ভব?
উল্লেখ্য যে ইজমা কিয়াস নিয়ে যে একটি হাদিস প্রচলিত সেটা জাল!
আশা করি দ্বীনি ভাইদের এই আর্টিক্যালটি উপকারে লাগবে। আমাদের সচেতন থাকতে হবে কেউ যেন ইজমা কিয়াসের নাম করে আমাদের ধোকা দিতে না পারে।
আল্লাহ জাজাকাল্লাহ খায়ের দান করুনঃ
১. ড. আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া
২. ড. মোহাম্মদ মানজুরে ইলাহী
৩. Islam House . com
৪. শায়খ মতিউর রহমান মাদানী
৫. শায়খ মুফতী কাজী মুহাম্মদ ইব্রাহী
sourse-sgissgissgis